
প্রথমদুটো ছবি বাদ দিয়ে বাকি ছবিগুলো 2005 থেকে 2024 এর কোন না কোন বছরের। বাড়ির জগদ্ধাত্রী পুজোর ছবি। 2005 যে বছর আমি বিএসসি শেষ করে মাস্টার্স-এর দোরগোড়ায় যাই, যে বছরের শুরুতে বাবা আমাকে একটা সোনি পয়েন্ট এন্ড স্যুট দেয়। মাঝের সময়টার বদল হওয়া বিভিন্ন ক্যামেরা, মোবাইল ফোনের ক্যামেরা আর বছর বছরের ছবি হার্ডডিস্কে জমানো, এমনকি আলাদা করে ড্রাইভ স্পেস কিনে রাখা। তার আগের ছবিও হয়তো খুঁজলে পাওয়া যাবে বাড়িতে, প্রিন্ট। আমার কোডাক ক্রোমা (মাধ্যমিকে বাবার আশার থেকে বেশি নম্বর পাবার উপহার), কিছু ছবি বোধহয় আমার দাদার পেনট্যাক্স, আর নিকনেরও। এক হিসাবে হাত না কাঁপিয়ে প্র্যাকটিস করার জায়গা ছিল ওই পুজো। আমার খাদ্যযোগ্য রান্না করা শেখার সূত্রপাত এই পুজোর হাত ধরেই। একবছর প্রথমবার সবার খাবার জন্য পুজোর বাঁধাধরা বাসন্তী পোলাও আর ছানার ডালনা করে ফেলেছিলাম। তখন কত বয়স উনিশ বা কুড়ি। বাবার বেশ সাপোর্ট ছিল। কেউ বাড়িতে ভয় পেয়েছিল কিনা জানিনা, বাবা পায়নি। ভোগ ডিপার্টমেন্ট একটা সময় মামমাম, মামনি, আমার দিদা হয়ে মায়ের হাতে। এই একটা দিন মায়ের রান্না নিয়ে আমার কোন বক্তব্য নেই, ভালো। অদ্ভুতভাবে ভালো। এছাড়া রান্নার ঠাকুরের এসে রান্না করা, ছাদে কিম্বা উঠোনে। অন্যেরা পুজোয় ব্যস্ত আর আমি পাহাড়ি জেঠুর রান্না হাঁ করে দেখছি আর শিখছি কী করে একশো, দুশো লোকের রান্না করতে হয়। মৃন্ময়ী মূর্তি আনার নিয়ম নেই তাই মা চন্ডীর ঘটপুজো ও প্রায় একশো বছরের পুরনো সেলাই করা ছবি পুজোতেই আমরা অভ্যস্ত। বহুবার বলেছি বাবাকে, "এতবড় পুজো, ঠাকুর আনলে তবে তো দেখার মত!" উত্তর পেয়েছি, ঠাকুমার ক্যানসার জানার পর তাঁর ইচ্ছায় বাবা যে পুজো শুধু একবাটি পায়েসের ভোগ দিয়ে 1982 সালে শুরু করেছিল, তার পদ্ধতিতে বদল আসবে না। আমার একচল্লিশ বছরের জীবনে এক বা দুই বছর আমি বাড়ি থাকিনি, খুব সম্ভবত শহরের বাইরে চাকরি ও ছুটির অভাবে। তাছাড়া প্রতিবছর ফিরেছি। বাবা সেই পুজোতে থাকেনি শুধু একবার, গতবছর, যার একমাসের মাথায় বাবা থাকা থেকে আর নেই। এ'বছর যাইনি। মায়ের কথা শুনেই, একটা বছর ইত্যাদি। আমি খুব একটা ভক্তিভাবাপন্ন মানুষ নই, কোনোদিন নই, আমার কোনো ধর্মে কোন আপত্তি নেই আবার কোন ধর্মের বাড়াবাড়িতে আমি নেই। কিন্তু এই পুজোটা আমার কাছে ঠিক ধর্ম নয়, আমার বড় হয়ে ওঠার মাঝের অনেককিছু। এই পুজো আমার জন্ম, লেখাপড়া, চাকরি, বিয়ে, সন্তান সব দেখেছে। মেহেবুবও কাল ফোন করে জিজ্ঞেস করলো "ঠিক আছিস?" আছি কি? কে জানে..."তোর ইচ্ছা হলে আমাদের ফ্ল্যাটে করতে পারিস, এরপরে। আমরা তো এমনিই পুজো, ঈদ সব একসঙ্গেই রেখেছি।" করবো কি? জানিনা। বাকিটুকু কমেন্ট-এ। #jagadhatripuja
This post was published on 30th October, 2025 by Debjani on her Instagram handle "@foodofdebjani (Debjani Chatterjee)". Debjani has total 102.3K followers on Instagram and has a total of 2.1K post. Debjani receives an average engagement rate of 1.2% per post on Instagram. This post has received 8 comments which are greater than the average comments that Debjani gets. Overall the engagement rate for this post was lower than the average for the profile. #jagadhatripuja has been used frequently in this Post.