
|| যোগীঘাট, সিটং || একটা পাহাড়ি গ্রাম। পাশ দিয়ে ঝরঝর আওয়াজে বয়ে যাচ্ছে নদী। ওপরে একটা কাঠের ব্রীজ আর রিভারবেডে তুমি দাঁড়িয়ে আছো। অনুমান করতে পারছো দৃশ্যটা? আজ্ঞে হ্যাঁ, এরকমই একটা নদীর পাড়ে সেদিন কাটালাম এক রাত। জায়গাটা হলো Riverview Homestay, Sittong, Lower Jogighat. কাঁফেরগাও থেকে মংপু হয়ে পরদিন দুপুরে রওনা দিলাম যোগীঘাটের দিকে। মনের মধ্যে বাড়ি থেকে পুষে আনা একটা উদ্দীপনা যে গিয়েই নদীতে ঝাপিয়ে পড়বো। উফ! লাফালাফি, ছলাৎছলাৎ কি যে আনন্দ! কিন্তু পথে হলো বিধিবাম। রাস্তায় গাড়িটা দুবার বিগড়বাই করায় ওখানেই আমাদের অনেক দেরী হলো। ড্রাইভার দাদাকে বারবার বলতে থাকলাম যে আমাদের স্নান করার প্ল্যানটা পন্ড হয়ে যাবে দাদা, একটু জলদি করো। সেই শেষমেষ যোগীঘাট পৌঁছাতে আমাদের প্রায় দুপুর হয়ে গেলো। সকালে লুচি, ম্যাগি এসব খেয়ে বেড়োনো হয়েছিলো। আর কতক্ষণ ওসব পেটে থাকে। তাই পৌঁছেই আগে স্নানের প্ল্যানটা বাদ দিয়ে গরম গরম খাওয়া পরিবেশনের জন্য বললাম আমরা। ওনারা আগে থেকেই আমাদের জন্য রান্না তৈরি রেখেছিলেন। যদিও পাহাড়ে মানুষজন অনেক যত্ন করে রান্না করেন, তবে কাঁফেরগাও-র মতন ওমন স্বাদ এখানে পেলাম না। চালটা বেশ মোটা আর শক্ত, ডাল-এরও তেমন স্বাদ নেই আর সাথে পাপড় ভাজা টা একটু খাওয়া যায়। তা যাই হোক ক্ষিদের সময় যাই পাওয়া যায় আর কি। খাওয়া সেরে আমরা রওনা দিলাম নদীর দিকে। বাড়ি থেকে আসার সময় এই নদীতে স্নান করবো বলে খুবই উত্তেজিত ছিলাম সবাই। কিন্তু প্রথমত এখানে পৌঁছাতেই অনেক দেরী হয়ে গেলো আর এতোটা পথ এসে খাওয়া দাওয়ার পর এখন এনার্জিটা একটু কমে এসেছে। হোমস্টে থেকে একটা পায়ে হাঁটা পথ জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে চলে গেছে নদীর দিকে। আমরা ওটা ধরেই নদীর পাশ দিয়ে হেঁটে হেঁটে এরম একটা জায়গায় পৌঁছালাম যেখান দিয়ে নদীতে নামা যায়। কিন্তু একি! নদীতে জল কোথায়? হাঁটুর নীচ অবদি ভেজার মতো জল রয়েছে নদীতে। যাহ! এপ্রিলের প্রথম দিকে এসে তো একদম হৃদয়ভঙ্গ হয়ে গেলো। আশেপাশের জঙ্গল পরিষ্কার করার জন্য-ও আগুন লাগানো হয়েছিল, সেগুলোও কেমন কালো কালো বর্ণ হয়ে আছে। আমরা ঐ উঁচুনীচু পাতায় ঢাকা রাস্তাটা দিয়েই অনেক ঝুঁকি নিয়ে নদীর কাছে পৌঁছালাম। তবে গিয়ে বুঝলাম এ জলে নামা যাবে না, অন্তত এখন তো নয়ই। কারণ জলে তেমন স্রোত না থাকায় বেশ কিছু মাকড়সা, পোকামাকড় বাসা করেছে। সাথে পাথর গুলোও বেশ পিচ্ছিল। তাই স্নানের ইচ্ছা মনের টা মনেই রইলো। তবে হ্যাঁ, একটা মায়াবী বিকেলে নদীর জলে পা ডুবিয়ে ব্রীজের ফাঁক দিয়ে সূর্যাস্ত দেখবো বলেই তো পাহাড়ে ছুটে ছুটে আসি বারবার। সে ইচ্ছা কিন্তু অপূর্ণ রাখেনি প্রকৃতি।
This post was published on 15th September, 2025 by Debleena on her Instagram handle "@deltas_safarnama (Delta Banik)". Debleena has total 62 followers on Instagram and has a total of 57 post.This post has received 7 Likes which are greater than the average likes that Debleena gets. Debleena receives an average engagement rate of 2.9% per post on Instagram. This post has received 0 comments which are than the average comments that Debleena gets. Overall the engagement rate for this post was lower than the average for the profile.